মৌলভীবাজার জেলা ও শহর ছাত্র মজলিস পুনর্গঠন
ইসলাম ঈমান-আকিদা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিনাশী অপতৎপরতা প্রতিরোধে ছাত্রসমাজকে সোচ্চার হতে হবে
-ছাত্র মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস মৌলভীবাজার জেলা ও শহর শাখার ২০১৫-২০১৬ সেশনের নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায়, মৌলভীবাজার শহরস্থ স্থানীয় মিলনায়তনে শাখা পুনর্গঠন উপলক্ষে ছাত্র মজলিস মৌলভীবাজার জেলা ও শহর শাখার যৌথ উদ্যোগে বার্ষিক সদস্য ও সহযোগী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা ও শহর শাখা পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করেন সংগঠনের নব-নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহাইল আহমদ। অনুষ্ঠিত সমাবেশে ২০১৫-২০১৬ সেশনের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি পুনরায় মনোনীত হয়েছেন মুহাম্মদ এহসানুল হক, সেক্রেটারি ফরহাদ সাইফুল্লাহ। অপর দিকে মৌলভীবাজার শহর সভাপতি নির্বাচিত হন জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি হাসান আহমদ। মনোনীত ও নির্বাচিত সভাপতিদ্বয়কে শপথ পাঠ করান, সমাবেশের প্রধান অতিথি ও নির্বাচন কমিশনার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের নব-নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহাইল আহমদ।
মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মুহাম্মদ এহসানুল হকের সভাপতিত্বে ও শহর সভাপতি জাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহাইল আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবদুস সবুর, মৌলভীবাজার শহর খেলাফত মজলিস সভাপতি সৈয়দ মাওলানা মুজাদ্দিদ আলী, সাবেক কেন্দ্রীয ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ মুহিবুল ইসলাম, সাবেক জেলা সভাপতি এম.এ আতিকুর রহমান, মাওলানা সৈয়দ সাইফুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহাইল আহমদ বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী ঐতিহ্য ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। একের পর এক ইসলামী নিদর্শন, সংস্কৃতির উপর আঘাত করা হচ্ছে। জাতীয়ভাবেও দেশ আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার আজ চরমভাবে ভুলুন্ঠিত। ইসলাম বিদ্বেষী আওয়ামী লীগের ইসলাম-ঈমান-আকিদা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিনাশী অপতৎপরতা অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি রাজধানীতে আল্লাহর ঘর পবিত্র মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা ও কোরবানির ঐতিহ্যকে নির্মূল করার সুগভীর ষড়যন্ত্র চলছে। গত মঙ্গলবার মুসলিম মহিলাদের ফরজ বিধান নেকাব পরার অপরাধে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চারজন পর্দানশীন ছাত্রীকে নেকাব পড়ে কাসে আসার অপরাধে ওই বিভাগের প্রভাষক সামিয়া ফারহানা সুমা ক্লাস থেকে বের করে আল্লাহর ফরজ বিধানের সাথে ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছেন! ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এসব ইসলামবিরোধী অপতৎপরতা মেনে নেয়া যায় না।
সুপরিকল্পিতভাবে দেশে একদিকে নগ্নতা ও বেহায়াপনাসহ অপসংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে, অন্যদিকে ইসলামি সংস্কৃতিকে হেয় প্রতিপন্ন ও সংকোচনের অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের অজুহাত নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চিরাচরিত ইসলামি ঐতিহ্য ধ্বংসের বিপরীত। সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইসলামী সংস্কৃতি ও চেতনাবোধ মুছে ফেলার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ। সরকারের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, কুরবানির এতিহ্য বিনষ্টকারী সিদ্ধান্ত ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নামে বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে নেকাব বিরোধী জাবির শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবেএবং ইসলাম ঈমান-আকিদা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিনাশী অপতৎপরতা প্রতিরোধে ছাত্রসমাজকে সোচ্চার হতে হবে ।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নব-মনোনীত জেলা সেক্রেটারি ফরহাদ সাইফুল্লাহ, শহর সেক্রেটারি হাসান আহমদ, খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক খিজির মোহাম্মদ জুলফিকার, সাবেক শহর ছাত্র মজলিস সেক্রেটোরি হাসান আহমদ চৌধুরী, সাবেক জেলা বায়তুলমাল সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সদ্য বিদায়ী জেলা বায়তুমাল সম্পাদক জুবায়ের আহমদ, বড়লেখা উপজেলা সভাপতি মনসুর আহমদ, কুলাউড়া উপজেলা দক্ষিণ সভাপতি এমাদ উদ্দিন প্রমুখ।