ইসলামী ছাত্র মজলিসের ৩ দিনব্যাপী স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত।
সমাজ, সভ্যতা, ধর্ম ও সংস্কৃতি বিরোধী চলমান শিক্ষাক্রম বাতিল করতে হবে
————————– আমীরে মজলিস
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে নির্ধারিত শাখা দায়িত্বশীলদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম গত ২৩,২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিলাল আহমদ চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমীর,বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।
সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ভূতাত্ত্বিক এবং ধর্মীয় বিবেচনায় ঐতিহাসিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। যার ফলে সবসময়ই দেশ-বিদেশী বিশেষ একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয় আমাদের এই দেশ। এই কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ শিকার হচ্ছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, এই দেশ হলো ৯২ ভাগ মুসলমানদের দেশ। কিন্তু নানান সময় এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ শিক্ষা ব্যবস্থায় ট্রান্সজেন্ডারবাদের সংযোজন সেই ইসলাম, সমাজ ও সংস্কৃতি বিরোধী ষড়যন্ত্রের আরেকটি নগ্ন অধ্যায়। চলমান এই শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে ইতিহাস থেকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র মুছে ফেলা, এদেশে মধ্যযুগীয় ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো-সহ ইসলামবিরোধী নানা বিষয় সংযুক্ত করা মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ নিশ্চিহ্ন করার-ই পায়তারার অংশবিশেষ। প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি, এসব সমাজ ও ধর্মবিরোধী শিক্ষাক্রম বাতিলে ছাত্র মজলিসকে অতীতের ন্যায় ছাত্র সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি ও সুসংগঠিত করার আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
এছাড়াও তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সরকার-কে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং যেকোন মূল্যে আসন্ন রমজানের আগেই বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে এবার-ও সরকার ব্যর্থ হলে নিকটতম ভবিষ্যতে সরকারকেই এর চরম মূল্য দিতে হবে।
সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ রায়হান আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, সাবেক কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক ইকবাল হাসান কয়ছর।
এছাড়াও বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কাদির সালেহ, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু, অধ্যাপক আজিজুল হক, লেখক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক আব্দুল কাদির মাসুম, সাবেক কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহীন, প্রচার ও অফিস সম্পাদক হাসান আহমদ খান।
অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ও ক্যাম্পাস কার্যক্রম সম্পাদক কে.এম ইমরান হোসাইন, প্রকাশনা সম্পাদনা আলমগীর হোসাইন, বায়তুলমাল সম্পাদক ইসমাইল খন্দকার, office ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পাঠাগার ও মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক আহসান আহমাদ খান, প্রচার ও স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন জাকির, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি নূর মুহাম্মদ, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি লিটন আহমদ জুম্মান প্রমুখ।