সত্যের সমাজ বিনির্মানের কণ্টকাকীর্ণ পথচলার চৌত্রিশ বছর আজ!
১৯৯০ এর ৫-ই জানুয়ারি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস প্রতিষ্ঠালাভ করে। আক্ষরিক অর্থে শুধুমাত্র নামসর্বস্ব ছাত্রসংগঠন হিসেবে ইসলামী ছাত্র মজলিসের যাত্রার সূচনা হয়নি বরঞ্চ সময়ের প্রয়োজনে, ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার উপযোগী জ্ঞান এবং যোগ্যতাসম্পন্ন জনশক্তি তৈরির নিমিত্তে ইসলামী ছাত্র মজলিস তার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেছিল। ইসলামী ছাত্র মজলিসের যাত্রার মধ্যে দিয়ে দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল এদেশের ত্রি-ধারায় বিভক্ত ছাত্র সমাজের বহুমত/পথ উপেক্ষা করে ইসলামী হুকুমত কায়েমের এক অভিন্ন মহীরুহে মিলিত হওয়ার।
সংখ্যার বিবেচনায় স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ আবার দ্বীন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখে এমন সংখ্যক শিক্ষার্থীদের অভয়ারণ্য হচ্ছে ক্বওমী ও আলীয়া মাদ্রাসা। ইসলামী ছাত্র মজলিস ৯০ এর দশকেই প্রবলভাবে বিশ্বাস করেছিল, বাংলার জমিনে মহান আল্লাহর প্রদত্ত দ্বীন ‘ইসলাম-কে’ বিজয়ী করতে হলে প্রয়োজন এই ত্রি-ধারার ছাত্রসমাজ।
সেই প্রয়োজনীয়তা এবং প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে ১৯৯০ সালের ৫-ই জানুয়ারী ”জ্ঞান অর্জন, চরিত্র গঠন ও সমাজ বিপ্লবের জিহাদে শরীক হোন” এই মৌলিক প্রতিপাদ্য-কে ধারণ করে ইসলামী ছাত্র মজলিস প্রাচ্যের জ্ঞান গবেষণার সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে তার যাত্রা শুরু করে। যাত্রাকালে ইসলামী ছাত্র মজলিস অভিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে বলেছিল, ‘আমরা ততদিন পর্যন্ত নীরব হবোনা, যতদিন পর্যন্ত আল-কুরআনকে রাষ্ট্র পরিচালনার সংবিধান হিসেবে পাবো না ‘।
ইতোমধ্যেই আমাদের প্রাণপ্রিয় কাফেলার ৩৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। পালন করতে যাচ্ছি ৩৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দীর্ঘ পথচলায় কুরআনের রাজ কায়েম করতে গিয়ে আমরা হারিয়েছি আমাদের প্রিয় ভাই শহীদ আরমান, তাজুল, সাইফুল, ইয়াহইয়া-সহ দ্বীন কায়েমে প্রত্যয়ী অন্যান্য বীর মুজাহিদ ভাইদের।
মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে পরলোকগত হয়েছে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন নাবিক মাওলানা শফিক উদ্দিন (রহ), সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আখম হায়দার আলী (রহ), শেখ গোলাম আসগর (রহ) সহ আরও অগণিত প্রাক্তন ভাইয়েরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এইদিনে স্মরণ করছি সেইসব ভাইদের যাদের ত্যাগ, স্বপ্ন এবং পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আমরা উত্তর প্রজন্ম হিসেবে পেয়েছি প্রাণাধিক প্রিয় এই কাফেলাকে। আমরা বিশ্বাস করি পরম দয়ালু রব, প্রাক্তন ও বর্তমান ভাইদের ত্যাগ ও কুরবানীর উত্তম প্রতিদান দিবেন, ইনশাআল্লাহ।
আমাদের মঞ্জিল সুনির্দিষ্ট কিন্তু পথের ইতি’র সময় আপেক্ষিক! দ্বীন এই ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত না-হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবিরত সংগ্রামের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। দেশবাসী, সচেতন ছাত্রসমাজ, অভিভাবকগণ এবং সংগঠনের প্রাক্তন ও বর্তমান দায়িত্বশীল, সুধী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও জনশক্তিদের জানাচ্ছি ৩৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা।